fbpx
You are here
Home > অন্যান্য > বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেলা পাঁচ ক্রিকেটার!

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেলা পাঁচ ক্রিকেটার!

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ম্যাচ খেলা পাঁচ ক্রিকেটার!

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ক্রিকেট খেলার আবির্ভাব ঘটেছিল ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে। এরপর ১৮৪৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলা শুরু হয়। তবে ইতিহাস স্বীকৃত ৫ দিন ব্যপী টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ খেলা শুরু হয় ১৮৭৭ সালের দিকে। সময়ের পরিগণনায় সীমিত ওভারের ক্রিকেটের নতুন সংস্করণ আসে। ধীরে ধীরে তা টেস্ট ক্রিকেটের চেয়েও বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করে। অতঃপর ১৯৭৫ সালে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের উপর ক্রিকেট খেলুড়ে ৮টি দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিশ্বকাপ। ১৯৭৫ সাল থেকে ২০১৯ সালের আগ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে মোট ১১টি বিশ্বকাপের আসর। এই আসর গুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচে খেলার সুযোগ পাওয়া প্রথম পাঁচজন খেলোয়াড়কে নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

এই খেলোয়াড়দের তালিকায় ১ নম্বর অবস্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত খেলা এই ক্রিকেটার বিশ্বকাপে খেলেছেন মোট ৪৬টি ম্যাচ। ৪৫.৮৬ গড়ে তার রান সংখ্যা ১৭৪৩। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত অপরাজিত ১৪০ রানের ইনিংসের সাথে আছে ৫টি সেঞ্চুরি। ফিল্ডার হিসেবে লুফে নিয়েছেন মোট ২৮টি ক্যাচ।

দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকার। ১৯৯২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত রেকর্ড ৬টি বিশ্বকাপ খেলা এই ক্রিকেটার বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছেন মোট ৪৫টি ম্যাচ খেলার। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৫২ রানের ইনিংসের সাথে সেঞ্চুরি করেছেন মোট ৬বার যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ৫৬.৯৫ গড়ে তার রান সংখ্যা ২২৭৮। মূলত ব্যাটসম্যান হলেও বোলার হিসেবে নিয়েছেন মোট ৮টি উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ২/২৮। ফিল্ডার হিসেবে ধরেছেন মোট ১২টি ক্যাচ।

তিন নম্বর অবস্থানে আছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক মাহেলা জয়বর্ধন। ১৯৯৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ীত্বের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে খেলেছেন মোট ৪০টি ম্যাচ। ৩৫.৪৮ গড়ে রান করেছেন ১১০০, যেখানে বিশ্বকাপ আসরে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস অপরাজিত ১১৫ রানের। বিশ্বকাপে তার সেঞ্চুরি সংখ্যা মোট ৪টি। বোলিং করে নিয়েছেন ২টি উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ২/৫৬। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে সর্বমোট ১৬টি ক্যাচ ধরেছেন এই অভিজ্ঞ ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

এই তালিকায় চতূর্থ অবস্থানে রয়েছেন ১৯৯৬-২০১১ সাল পর্যন্ত খেলা আরেক শ্রীলংকান ক্রিকেটার মুত্তিয়া মুরালিধরন। শ্রীলংকান এই স্পিন বোলিং লিজেন্ড খেলেছেন জয়বর্ধনের সমান সংখ্যক ৪০টি ম্যাচ। বিশ্বকাপে ১৯.৬৩ গড়ে নিয়েছেন ৬৮টি উইকেট, সেরা বোলিং ফিগার ৪/১৯। ফিল্ডার হিসেবে ক্যাচ ধরেছেন ১৩টি।

পঞ্চম অবস্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলিং লিজেন্ড গ্লেন ম্যাকগ্রা। ১৯৯৬-২০০৭ ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে খেলেছেন মোট ৩৯টি ম্যাচ। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ১৮.১৯ গড়ে নিয়েছেন মোট ৭১টি উইকেট যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ২ বার। বিশ্বকাপে তার সেরা বোলিং ফিগার ৭/১৫। ফিল্ডার হিসেবে ক্যাচ নিয়েছেন ৫টি।

এছাড়া এই তালিকায় পরবর্তি ৫ অবস্থানে আছেন যথাক্রমে সনাত জয়সুরিয়া, ওয়াসিম আকরাম, কুমার সাঙ্গাকারা, জ্যাক ক্যালিস এবং অরবিন্দ ডি সিলভা। শ্রীলংকান লিজেন্ড সনাত জয়সুরিয়া বিশ্বকাপে ৩৮ ম্যাচ খেলে ৩ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন ১১৬৫, উইকেট নিয়েছেন ২৭টি এবং ক্যাচ ধরেছেন ১৮টি। অন্যদিকে সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে পাকিস্তানি স্যুইং লিজেন্ড ওয়াসিম আকরাম তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ২৩.৮৩ গড়ে, ৫/২৮ সেরা বোলিং ফিগারে উইকেট নিয়েছেন মোট ৫৫টি। অষ্টম অবস্থানে থাকা শ্রীলংকান উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান ৩৭ ম্যাচ খেলে ৫ সেঞ্চুরির সুবাদে ৫৬.৭৪ ব্যাটিং গড়ে করেছেন ১৫৩২ রান। উইকেটের পিছনে থেকে ক্যাচ নিয়েছেন ৪১টি এবং স্ট্যাম্পিং করেছেন ১৩টি। সাউথ আফ্রিকান অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস ৩৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচে ৪৫.৯২ ব্যাটিং গড়ে সংগ্রহ করেছেন ১১৪৮ রান এবং ব্যক্তিগত সেরা ৩/২৬ বোলিং ফিগারে উইকেট নিয়েছেন মোট ২১টি। বিশ্বকাপে ৩৫ ম্যাচ খেলা শ্রীলংকান লিজেন্ড অরবিন্দ ডি সিলভা ৩৬.৬৮ গড়ে ২টি সেঞ্চুরির সুবাদে রান করেছেন ১০৬৪। এছাড়া বল হাতে নিয়েছেন ১৬টি উইকেট সাথে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং ফিগার ৩/৪২।

উপরে