fbpx
You are here
Home > ক্রিকেট > আয়ারল্যান্ড ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ!

আয়ারল্যান্ড ত্রিদেশীয় সিরিজের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ!

১৭ই মে, ১৯৯৮। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম জয়। ঠিক ২১ বছর পর এই একই দিনে ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম কোন বহুজাতিক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের (দ্বিপাক্ষিক ব্যাতিত) শিরোপা জিতলো বাংলাদেশ। সেই ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার সাথে হার থেকে শুরু করে এই তো সেইদিন দুবাইতে এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে হার পর্যন্ত! মাঝে চলে গেছে ১০টি বছর। ৬টি ফাইনালে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে শিরোপার স্বাদ পেলো টাইগাররা। বিশ্বকাপের ঠিক আগে এমন বাংলাদেশকেই তো দেখতে চেয়েছিল গোটা বাংলাদেশ।

মোসাদ্দেকের ঝড়ো ইনিংসে ওয়ালটন ত্রিদেশীয় ওডিআই সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কে ৫ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ। শুরুটা করেছিল ওপেনার সৌম্য সরকার। মাঝে মুশফিকের ক্যামিও আর শেষ দিকে এসে মোসাদ্দেক-মাহমুদুল্লাহর জুটিতে ক্যারিবিয়দের হারিয়ে ট্রফি হাতিয়ে নিল টাইগাররা।

এই সিরিজে প্রথমবারের মতো টসে জেতে বাংলাদেশ। টসে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই ক্যারিবিয়ানদের হারিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল টাইগাররা। কিন্তু টাইগারদের অস্বস্তির একটি কারণ ছিল সাকিবের ইনজুরি। এর পরে অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয় ক্যারিবীয় দুই ওপেনার শাহি হোপ এবং সুনীল অ্যামব্রিস।

ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশী বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করেন এই দুই ক্যারিবিয়ান মারকুটে ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশী পেসার, স্পিনার কেউই সফলতার মুখ দেখতে পারছিল না। এর মধ্যে খেলার ২১তম ওভারে আকস্মিকভাবে বৃষ্টি আঘাত হানে। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার শাই হোপ ৫৬ বলে ৬৮ এবং অ্যামব্রিস ৬৫ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

টানা বৃষ্টির পর ভেজা আউট ফিল্ডের কারনে আরও কিছুটা সময় পাড় হয়ে যায়। মাঠ পরিদর্শণ শেষে অবশেষে ম্যাচ রেফারি ঘোষণা করেন খেলা আবার শুরু হবে কিন্তু ম্যাচের পরিসর কমিয়ে ২৪ ওভার নির্ধারন করে দেন তারা। বৃষ্টির পর মাঠে নেমে বাকি ৩ ওভার সহ মোট ২৪ ওভার ব্যাট করে ক্যারিবীয়ানরা সংগ্রহ করে ১৫২ রান, ১ উইকেট হারিয়ে। কিন্তু ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ২১০।

ডিএলএস মেথডে ২১০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা দারুন করেন সৌম্য এবং তামিম। কিন্তু ম্যাচের ষষ্ঠ ওভারে ক্যারিবীয় পেসার গ্যাব্রিয়েলের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তামিম। এরপর ক্রিজে আসেন সাব্বির। কিন্তু একই ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলে তাকেও সাজ ঘরে ফেরান গ্যাব্রিয়েল। এর পর মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সৌম্য। কিন্তু ব্যক্তি গত ৬৬ রানে তিনিও ফিরে যান রিফারের বলে ক্যাচ দিয়ে। এর পর মিথুনকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা চালালেও আবার সেই রিফারের কাছে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে ফিরে যান মুশফিকও।

পরে মাহমুদুল্লাহর সাথে মিথুনের ছোট্ট একটা জুটি হয়। সেই জুটি থিতু হওয়ার আগেই মিথুন ফিরে যান সাজঘরে। ফলে দ্রুত উইকেট পতনে চোঁখ রাঙ্গানো শুরু করে ২১০ রানের লক্ষ্য। এই অবস্থায় ম্যাচের হাল ধরেন মাহমুদুল্লাহ এবং মোসাদ্দেক। কিন্তু জেতার সমীকরণটা ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই হাত খোলা শুরু করেন মোসাদ্দেক। ক্যারিবীয় স্পিনার অ্যালেনের এক ওভারে ৩ ছয় ও ১ চারে জেতার সমীকরণ সহজ করে ফেলেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। শেষে ৭ বল হাতে রেখেই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ২৪ বলে ৫২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ফাইনাল জেতানো মোসাদ্দেক পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কার। আর পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ ব্যাটিং নৈপূণ্য দেখিয়ে সিরিজ সেরার পুরষ্কার পেয়েছেন শাই হোপ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ডঃ

ওয়েস্ট ইন্ডিজঃ ১৫২/১; ২৪ ওভার (হোপ ৭৪, অ্যামব্রিস ৬৯*, ব্রাভো ৩*; মাশরাফি ০/২৮, সাইফউদ্দিন ০/২৯, মোস্তাফিজ ০/৫০, মোসাদ্দেক ০/৯, মিরাজ ১/২২, সাব্বির ০/১২)

বাংলাদেশঃ ২১৩/৫; ২২.৫ ওভার (তামিম ১৮, সৌম্য ৬৬, সাব্বির ০, মুশফিক ৩৬, মিথুন ১৭, মাহমুদুল্লাহ ১৯*, মোসাদ্দেক ৫২*; নার্স ০/৩৫, হোল্ডার ০/২১, রোচ ০/৭৫, গ্যাব্রিয়েল ২/৩০, রিফার ২/২৩, অ্যালেন ১/৩৭)

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্যা ম্যাচঃ মোসাদ্দেক হোসেন (বাংলাদেশ)

ম্যান অব দ্যা সিরিজঃ শাই হোপ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

ছবিঃ ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

উপরে