fbpx
You are here
Home > ফুটবল > আলোচনায়-সমালোচনায় ফুটবল বিশ্বকাপ

আলোচনায়-সমালোচনায় ফুটবল বিশ্বকাপ

ফুটবল বিশ্বকাপকে বলা হয় ”দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ”। ফুটবল বিশ্বকাপের রয়েছে একটি বিশাল সমৃদ্ধশালী ইতিহাস। স্বাভাবিকভাবেই অন্য সব সমৃদ্ধশালী ইতিহাসের মতোই ফুটবলের ইতিহাসের ভাঁজেও আছে বহু বিতর্কিত অধ্যায়। সেগুলো কখনো আমাদের অনুভূতিতে আক্ষেপ হয়ে ধাক্কা দেয়, কখনো বা হাসির কারন হয়ে যায়। ফুটবল বিশ্বকাপের সেই ইতিহাসের ভাঁজে কোথাও আবার খলনায়ক হয়ে আছেন রেফারি! আর কথা না বাড়িয়ে ঘুরে আসা যাক ১৯৩০ সালের উরুগুয়ের মন্টেভিডিও থেকে ২০১৪, মারাকানা পর্যন্ত ফুটবল ইতিহাসের ভাঁজে বিঁধে থাকা কিছু বিতর্ক থেকে।

১৯৩০ বিশ্বকাপ _ আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স (প্লেয়ার্স রিকল)

১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্সের ম্যাচে ছয় মিনিট বাকি থাকতেই খেলা শেষ করে দিয়েছিলেন রেফারি। ১-০ গোলের জয় নিয়ে উল্লাস করতে করতেই সাজঘরে ফিরেছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। কিন্তু ফরাসিদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে আবারও খেলোয়াড়দের মাঠে ডাকতে বাধ্য হয়েছিলেন সেই ম্যাচের রেফারি। আবারও মাঠে নামতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তারাই ম্যাচটা জিতেছিল ওই ১-০ গোলের ব্যবধানেই।

১৯৩৪ বিশ্বকাপ _ ইতালি বনাম চেকোস্লোভাকিয়া / মুসোলিনির ‘রেফারি’

ইতালিতে আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরকে নিজের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বেনিতো মুসোলিনি। ইতালি ফাইনালে পৌঁছানোর পর যেকোনোভাবেই শিরোপা জয় নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন ইতালির এই স্বৈরশাসক। ফাইনালের রেফারি হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন সুইডেনের ইভান ইকলিন্ডকে। সুইডিশ এই রেফারিও নিজের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেশ ‘ভালোভাবেই’। ইতালির খেলোয়াড়দের ভয়াবহ সব ফাউল দেখেও না দেখার ভান করেছিলেন। নিশ্চিত একটা পেনাল্টি থেকেও বঞ্চিত করেছিলেন চেকোস্লোভাকিয়াকে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় দিয়ে শিরোপা জিতেছিল ইতালি।

১৯৩৮ বিশ্বকাপ _ মুসোলিনির ‘টেলিগ্রাফ অব থ্রেট’

অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠলেও জার্মানি তাদের আংশিক দেশ দখল করে নেয়ায় বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়।

ফ্রান্সের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ইতালি দল তাদের রাষ্ট্রনায়ক বিনিতো মুসোলিনির কাছ থেকে একটি টেলিগ্রাফ পায়। সেখানে মুসোলিনি খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জয় লাভ কর, না হয় মর।’ মুসোলিনির আদেশে ইটালি সেদিন ইটালিয়ান ফেসিস্ট প্যারামিলিটারির প্রতীক কালো শার্ট পড়ে নেমেছিলো এবং ম্যাচ শুরুর আগে তাঁরা দলীয়ভাবে ফ্যাসিস্ট সেলুট দেয় যা ভড়কে দিয়েছিলো ফ্রান্স কে।

১৯৫০ বিশ্বকাপ _ মারাকাঞ্জো ট্র্যাজেডি  /  ব্রাজিল বনাম উরুগুয়ে _ ফাইনাল

ম্যাচের প্রথমার্ধ্ব গোল শূন্য ছিলো। দ্বিতীয়ার্ধ্বের শুরুতেই উরুগুয়ের জালে বল জড়ালো ব্রাজিলের ফ্রিয়াকা। খেলার ৬৬ মিনিটে গোল শোধ করে উরুগুয়ের শিফিয়ানো। কিছুটা সময় বাদেই ব্রাজিলের জালে বল জড়ালো উরুগুয়ের আলসাইডস ঘিগিয়া। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের উত্তেজনা মুহূর্তেই মিশে গেল হাওয়ায়। ব্রাজিল দলের গোলরক্ষক বারবোসা ছিলেন জাতীয় খলনায়ক। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গোলমুখ ফাঁকা করে উরুগুয়ের ঘিগিয়াকে গোলের সুযোগ করে দেওয়া। ব্রাজিল কখনোই ক্ষমা করেননি এই গোলরক্ষককে। মারাকানা ট্র্যাজেডির৪৩ বছর পরও বারবোসাকে ব্রাজিলের কোন ম্যাচে ধারাভাষ্য দিতে দেয়নি দেশটিরফুটবল ফেডারেশন। ব্রাজিলের অনুশীলন থেকে তাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, ‘আমিই হয়তো একমাত্র খেলোয়াড় যাকে মারাকানা ট্র্যাজেডির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশ।’

১৯৫৪ বিশ্বকাপ _ ব্রাজিল বনাম হাঙ্গেরী _ব্যাটেল অফ বার্ন 

কোয়ার্টার ফাইনালে হাঙ্গেরীর প্রতিপক্ষ ছিল ব্রজিল। দুই দলের আ্যাটাকিং ফুটবলের কারনে ফুটবলপ্রেমীরা একটি সুন্দর ম্যাচের প্রত্যাশায় ছিলেন। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের হতবাক করে দিয়ে এই ম্যাচটি শেষ হয় ৪২ টি ফাউল, ৩টি লাল কার্ড, ৪টি হলুদ কার্ড আর ২ টি পেনাল্টিতে। ব্যাটেল অফ বার্ন নামে পরিচিত এই ম্যাচটি হাঙ্গেরী জিতে নেয় ৪-২ গোলে। খেলা শেষে ব্রাজিল ও হাঙ্গেরির সমর্থকদের মধ্যে সত্যি সত্যি যুদ্ধ বেধে যায়।

১৯৫৪ বিশ্বকাপ _ হাঙ্গেরী বনাম পশ্চিম জার্মানী _ মিরাক্যাল অফ বার্ন

ফাইনালে হাঙ্গেরীর প্রতিপক্ষ ছিল পশ্চিম জার্মানী। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই পশ্চিম জার্মানীকেই ৮-৩ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল ম্যাজিকাল ম্যাগিয়ার্সরা। খেলা শুরুর ৮ মিনিটের মাথায় পুসকাস আর জিবরের গোলে ২-০ গোলের লীড নেয় হাঙ্গেরী। কিন্তু ‘নেভার সে ডাই’ আ্যটচিউডের জার্মানরা ১৮ মিনিটেই স্কোরবোর্ড করে ফেলে ২-২। এরপর পুসকাস, ককসিসের একের পর এক প্রচেস্টা আটকে যায় জার্মান ডিফেন্সে। ৮৫ মিনিটে কাউন্টার আ্যাটাকে হেলমুট রানের গোল উল্টা নিশ্চিত করে জার্মান রুপকথা। জন্ম হয় মিরাকেল অফ বার্নের। বলা হয়ে থাকে হাঙ্গেরির বিপক্ষে ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানির খেলোয়াড়রা ড্রাগ নিয়ে মাঠে নেমেছিল, যাতে তারা বেশি শক্তি পায়। হাঙ্গেরি চার বছরে টানা ৩০ ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু তারপরও ফাইনালে অপেশাদার জার্মান দলের কাছে হেরে যায়। ম্যাচ টি নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন স্পোর্টস ম্যাগাজিন ”দ্যা স্কোর” একটি বিবৃতিতে লিখেছিলো, ”The match. The streak. The domination of Hungarian football. All finished with a shrill whistle blast. The Miracle of Bern. ”

১৯৬২ বিশ্বকাপ _ ইতালি বনাম চিলি _ ব্যাটেল অফ সান্টিয়াগো

রেফারি ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই একটা ট্রেলার দেখা গেল। মাত্র ১২ সেকেন্ডেই হলো ম্যাচের প্রথম ফাউল, চার মিনিটে প্রথম লাল কার্ড। সেটা নিয়েও বিপত্তি। রেফারি লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন জর্জিও ফেরারিকে। কিন্তু তিনি মাঠ থেকে বের হবেন না! পরে সেই ঝামেলায় খেলা শুরু হওয়ার আগেই বন্ধ হয়ে গেল আরেকবার! ১০ মিনিট ধরে পরিস্থিতিই সামাল দিলেন রেফারি। রেফারি মাঠ ত্যাগ করলেও উত্তেজনায় ভাটা পড়েনি একটুও। লাথি, ঘুষি, হাতাহাতি, অযাচিত ফাউল, গালাগাল, ঘুষিতে নাক ভেঙে দেওয়া – এ যেন এক রণক্ষেত্র। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে এগুচ্ছিল। খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের আহত করার দিকেই ছিলেন বেশি মনোযোগী। ফলাফল যাই হোক না কেন, যেন একে অপরকে আহত করার মাঝেই নিহিত ছিল জয়! এসবের মধ্যে চিলির লিওনেল সানচেজ পার পেয়ে যান গুরুতর দুটি অপরাধ করেও। সাবেক প্রফেশনাল বক্সারপুত্র সানচেজ প্রথমে ইতালি অধিনায়ক হুমবারতো মাসচিওর নাক ভেঙে দেন ঘুষিতে, পরে আহত করেন মারিও ডেভিডকেও। যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হন ডেভিডই! তিন দফা পুলিশি হস্তক্ষেপের পর সেদিন শেষ পর্যন্ত চিলি জিতলেও আজও ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের কুৎসিততম ম্যাচ হিসেবেই।

১৯৬২ বিশ্বকাপ _ ফাইনাল (গারিঞ্চার প্রত্যাবর্তন)

সেমিফাইনালে ব্রাজিলের তারকা খেলোয়াড় গারিঞ্চাকে লাল কার্ড দেয়া হয়েছিল। ফলে তিনি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা হারান। কিন্তু ব্রাজিলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ত্রানক্রেদো নেভাস ফিফাকে বিষয়টি ভালোভাবে বুঝিয়ে লাল কার্ড তুলে নিতে অনুরোধ জানান। ফলে ফিফা লাল কার্ড তুলে নেয় এবং গারিঞ্চা ফাইনালে খেলতে পারেন।

১৯৬৬ বিশ্বকাপ _ ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা _ কোয়ার্টার ফাইনাল

আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন অ্যান্টোনিও রাতিনকে হুট করে ম্যাচ থেকে বের করে দেন রেফারি। অ্যান্টোনিও রাতিন মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃত জানান, পরবর্তীতে রেফারি কারন হিসেবে ব্যাখ্যা করেন অ্যান্টোনিও যে দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন সেট তার ভালো লাগেনি। এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রধান বিতর্কিত সিদ্ধান্ত।

১৯৬৬ বিশ্বকাপ _ ফাইনাল _ ইংল্যান্ড বনাম পশ্চিম জার্মানি _ ফ্যানটম গোল

১৯৬৬ পশ্চিম জার্মানি বনাম ইংল্যান্ডের ফাইনাল ম্যাচটি বিশ্বকাপের তীব্র সমালোচিত ম্যাচ গুলোর একটি। ম্যাচের ৯০ মিনিটের মাথায় ২-২ গোলে সমতা থাকায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত সময়ের ১১তম মিনিটে জর্জ হার্স্ট ক্রস থেকে পাওয়া একটি বল কাছ থেকে সজোড়ে শট করলে বল ওপরের ক্রস বারে লেগে গোল লাইনের কিছু আগে ড্র[প খায়। সুইস রেফারি গোল হয়েছে কীনা অনিশ্চিত থাকলেও সোভিয়েত রেফারি বল গোলবার অতিক্রম করেছে এমন সিগন্যাল দেন এবং জার্মানি বিরোধিতা করলেও পরবর্তীতে সেটিকে গোল হিসেবে গননা করা হয়। বর্তমান গোল লাইন টেকনোলোজিতে দেখা যায় বল সেদিন গোল লাইন অতিক্রম করেনি। ম্যাচটি ইংল্যান্ড ৪-২ ব্যাবধানে জিতেছিলো।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ _ স্বাগতিক আর্জেন্টিনা বিতর্ক _ গ্রুপ পর্ব

‘৭৮ বিশ্বকাপ আসরে স্বাগতিক আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও পুরো বিশ্বকাপ আসর জুড়ে তারা কয়েকটি বিতর্কের মুখোমুখি হয়। ব্রাজিল, পেরু ও পোল্যান্ডের সাথে ফার্স্ট রাউন্ডের খেলা পড়ে আর্জেন্টিনার। শেষ ম্যাচে ব্রাজিল ৩-১ গোলে জয় পেলে আর্জেন্টিনার জন্য সমীকরণ দাঁড়ায় কমপক্ষে ৪ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে সেমিতে যাওয়ার জন্য। সেই ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার মোট গোল ছিল ৬টি। অন্যদিকে ৫ ম্যাচে পেরু গোল হজম করেছিল ৫টি। সেই ম্যাচটি হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতে যায় ৬-০ গোলে! একটি রব উঠেছিল যে, কোনো এক ফরাসি প্লেয়ার নাকি দেখেছেন এক উর্দি পরা লোক প্লেয়ারদের নীল রঙের ট্যাবলেট সেবন করাচ্ছেন! সেই ম্যাচ পরে রব উঠল আর্জেন্টাইন প্লেয়ারদের জোর করে শক্তিবর্ধক ড্রাগ দেয়ার কথা। সেই সময়ের পেরু এত দুর্বল বা আর্জেন্টিনা এত সবল ছিল না যে স্কোরলাইন ৬-০ হতে পারে। ফলে একের পর এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আসতে থাকে।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ _ ব্রাজিল বনাম সুইডেন

কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে সেটা প্রতিপক্ষ সুইডেনের জালে জড়িয়েই দিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকো। কিন্তু ওয়ালসের রেফারি ক্লাইভ টমাস সেটাকে গোল হিসেবে গণ্য করেননি। কারণ কর্নার কিকটি নেওয়ার পরপরই তিনি বাজিয়ে দিয়েছিলেন শেষ বাঁশি। ম্যাচটি শেষ হয়েছিল ১-১ গোলের ড্র দিয়ে। ব্রাজিলের সমর্থকেরা তীব্র সমালোচনা করেছিলেন রেফারির।

১৯৭৮ বিশ্বকাপ _ স্বাগতিক আর্জেন্টিনা বিতর্ক _ ফাইনাল

ফাইনালে নেদারল্যান্ড দলকে স্টেডিয়ামে আনা হয় অনেক বেশী পথ ঘুরিয়ে। মাঠে যখন নেদারল্যান্ড দলকে আনা হয়, তখনও আর্জেন্টিনা দল ড্রেসিংরুমে। কেন এটা করা হয়েছিল? লাতিন ফ্যানরা অন্যান্য যেকোনো জায়গার থেকেই বেশী ফুটবলাবেগময়, তাই স্টেডিয়ামও থাকে বেশী শোরগোলময়। বুয়েন্স আয়ারসের ৭০,০০০ সমর্থকের সামনে হল্যান্ড দলকে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল কেবল দুয়ো খাওয়ার জন্য। ৭০,০০০ দর্শক হুইসেল ফুঁকিয়ে, সিটি বাজিয়ে হল্যান্ড দলকে দুয়ো দিতে লাগলো। এক নেদারল্যান্ড প্লেয়ারের ভাষায় যে অভিজ্ঞতাটা ছিল এমন, “তখন ৫টি জেট প্লেন উড়ে গেলেও আমরা টের পেতাম না।” মানসিকভাবে বেশ ধাক্কা খাওয়া হল্যান্ড দল নামে ফাইনালে। ফাইনালটি নিজেদের মাঠে ৩-১ গোলে জিতে নেয় আর্জেন্টিনা!

১৯৮২ বিশ্বকাপ – পশ্চিম জার্মানি বনাম অস্ট্রিয়া _ শেইম অফ গিজন

পশ্চিম জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচের সমীকরণ এমন ছিলো যে অস্ট্রিয়া একটির বেশি গোল খেলে আলজেরিয়া রাউন্ড অফ সিক্সটিনে কোয়ালিফাই করবে। এক গোল ব্যবধানে হারলেও অস্ট্রিয়া কোয়ালিফাই করবে। পাতানো ম্যাচটি ১-০ গোলের ব্যাবধানে শেষ করে দুই দল। এর পর থেকে কিছু রুলস এ পরিবর্তন আনে ফিফা।

১৯৮২ বিশ্বকাপ – পশ্চিম জার্মানি বনাম ফ্রান্স _ সেমিফাইনাল

১৯৮২ সালের উত্তেজনাপূর্ণ এই সেমিফাইনালটি স্মরণীয় হয়ে আছে রেফারির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য। ১-১ গোলের ব্যবধানে সমতা থাকার সময় চমত্কার একটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন ফ্রান্সের প্যাট্রিক ব্যাটিসটন। কিন্তু এ সময় জার্মানির গোলরক্ষক হ্যারাল্ড শুমাখার প্রচণ্ড  জোরে আঘাত করেন ব্যাটিসটনকে। চোয়াল ভেঙে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ফরাসি এই ডিফেন্ডার। ভয়াবহ এই ফাউলের পরও শুমাখারকে কোনো কার্ড দেখাননি রেফারি। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় পেয়ে ফাইনালে গিয়েছিল জার্মানি।

১৯৮৬ বিশ্বকাপ _ কোয়ার্টার ফাইনাল _ আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড – হ্যান্ড অফ গড

খেলার তখন ৫১ মিনিট। বাঁদিক থেকে ভেতরে ঢুকে আসছিলেন ম্যারাডোনা। আসার পথে বলটা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের পেনাল্টি বক্সের দিকে। ভেবেছিলেন হোর্খে ভালদানোর সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে নেবেন। বলটা বাড়িয়ে তাই নিজেও এগিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু বলটা ভালদানোর পায়ে যায়নি। ইংরেজ মিডফিল্ডার স্টিভ হজ নেমে এসেছিলেন, তাঁর পায়ে লেগে উঠে বল চলে গিয়েছিল পেছনে। ম্যারাডোনা এবং ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক-অধিনায়ক পিটার শিলটন, দুজনেই লাফিয়েছিলেন বলের জন্য। দেখা যায়, ম্যারাডোনার হাতের ধাক্কায় বল আশ্রয় নিয়েছে জালে, ম্যারাডোনা দৌড়চ্ছেন সাইডলাইনের দিকে আর রেফারির দিকে দৌড়চ্ছেন শিলটন ও হডল!

১৯৯০ বিশ্বকাপ _ আর্জেন্টিনা বনাম পশ্চিম জার্মানি _ ফাইনাল

নব্বইয়ের বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল রেফারির বাজে সিদ্ধান্তে বিতর্কিত। মেক্সিকান রেফারি কোডেশাল মেন্ডেজের মাধ্যমে সেদিন ‘উপকৃত’ হয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। ভাঙা দল নিয়ে আর্জেন্টিনা সেবার ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে পৌঁছে গিয়েছিল ফাইনালে। প্রতিপক্ষ জার্মানি আবার ছিল ওই বিশ্বকাপের সেরা দল। ফাইনালেও রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে জার্মানিকে প্রায় ঠেকিয়েই দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু খেলার শেষের দিকে মেক্সিকান রেফারি পেনাল্টি দেন জার্মানিকে। ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান একটি বল নিয়ে আর্জেন্টিনার বক্সে ঢুকে পড়লে তিনি যে বাধার শিকার হয়েছিলেন, সেটা ফাউল ছিল কি না, তা নিয়ে এত বছর পরেও বিতর্ক চলে। সেই পেনাল্টি থেকেই আন্দ্রেস ব্রেইমে গোল করে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিল জার্মানিকে। রেফারি সেদিন কেবল পেনাল্টি দিয়ে ক্ষান্ত দেননি, লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন দুই খেলোয়াড়কে। বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো খেলোয়াড়ের লালকার্ড দেখার ঘটনা ওটাই প্রথম।

১৯৯৪ বিশ্বকাপ _ যুক্তরাষ্ট্র বনাম কলাম্বিয়া _ আন্দ্রে এসকোবারের খুন

কলাম্বিয়া পরের রাউন্ডে জেতে হলে জিততে হবে এমন সমীকরণ নিয়ে মাঠে নেমে গোলকিপার আন্দ্রে এসকোবারের ভুলে একটি আত্মঘাতী গোল হজম করে এবং পরবর্তীতে দেশে ফেড়ত আসার ১১ দিনের মাথায় এসকোবারকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে ১২ টি গুলি পাওয়া গিয়েছিলো।

২০০২ বিশ্বকাপ _ স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়ার কারচুপি

দক্ষিণ কোরিয়া রাউন্ড অফ সিক্সটিনে ইতালির মুখোমুখি হয়। ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচটিতে রেফারি ইতালির পরিষ্কার বৈধ একটি গোল বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত সময়ে কোরিয়া গোল করে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায়। একইভাবে সেমিফাইনালেও স্পেনের দুইটি বৈধ গোল বাতিল করেন রেফারি এবং কোরিয়া ট্রাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে। পরবর্তীতে ম্যাচ ফিক্সিং এর কারনে দুই ম্যাচের রেফারিকেই বাদ্ধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিলো।

২০০২ বিশ্বকাপ _ ব্রাজিল বনাম তুরস্ক _ রিভালদো ড্রামা

রিভালদোর মাথায় আঘাত লাগার অভিনয়। রিভালদো কর্ণার কিক করার সময় তুর্কি ডিফেন্ডার বলে আলতো করে কিক করে রিভালদোকে দিতে চাইলে বল রিভালদোর হাটুতে লাগে। রিভালদো মাথায় ব্যাথা পাওয়ার অভিনয় করে পড়ে যান এবং পরবর্তীতে তুর্কি ডিফেন্ডারকে লাল কার্ড দেওয়া হয়।

২০০৬ বিশ্বকাপ _ ফ্রান্স বনাম ইতালি _ ফাইনাল

ম্যাচের মাঝখানে হুট করে ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান ইতালিয়ান ডিফেন্ডার মাতারাজ্জির বুক বরাবর মাথা দিয়ে গুতো দিয়ে সজোড়ে ফেলে দেন এবং রেফারি জিদানকে লাল কার্ড দেখান। পরবর্তীতে জানা যাউ মাতারাজ্জি জিদানকে গালাগালি করে উত্ত্যক্ত করেছিলেন।

ছবি-ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

উপরে